ঢাবি-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ - ১৪২৫ উদ্‌যাপিত

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিন নব উল্লাসে মেতে উঠেছে কোটি বাঙালির হৃদয়। “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” প্রতিপাদ্য ও মর্মবাণী ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্‌যাপিত  হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪২৫। ১৪ এপ্রিল ২০১৮ (১লা বৈশাখ ১৪২৫) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে নববর্ষ আবাহনের বর্ণময় আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। শোভাযাত্রায় অংশ নেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সম্মিলনে শোভাযাত্রাটি শাহ্বাগ মোড় হয়ে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল থেকে টিএসসি হয়ে চারুকলায় এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় শতাধিক বিদেশি অতিথি ও অনেক পর্যটক অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে ‘এসো হে বৈশাখ’ শিরোনামে নতুন বছরের সমৃদ্ধি কামনায় সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের উদ্যোগে কলাভবন প্রাঙ্গনস্থ বটতলায় সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষবরণ উৎসবের শুরু হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন। এসময় সংগীত বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. মহসিনা আক্তার খানম উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ সকলকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বর্ষবরণ শুধু ঐতিহ্য রক্ষার অনুষ্ঠান নয়। এটি আমাদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়ারও প্রেরণা দেয়। এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা আছে, আছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, উদার নৈতিক, মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রেরণা। যা ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দর্শন ধারণ করতেন। তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলা বিনির্মাণের জন্য এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার স্লোগানটি হলো ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। বঙ্গবন্ধু বলতেন, আমাদের সোনার মানুষ দরকার। সোনার মানুষ সেদিন হবে যেদিন এক মানুষ অন্য মানুষকে সম্মান করবে। এই সম্মান করার মধ্যেই বলা হয়েছে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি। এটি আমাদের লালন সংগীতের একটি উক্তি। আমরা সেটিকে ধারণ করি।’  উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অপতথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। নতুন বছরে যেন এ ধরনের ঘটনা সংগঠিত না হয়। নতুন বছর সবার জীবনে সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক। পাশাপাশি সকল তথ্য আমরা যাছাই বাছাই করে গ্রহণ কিংবা বর্জন করবো নতুন বছরে এটি হোক আমাদের প্রত্যয়।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামসহ অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে আজ বিকেল ৫টায় নাটমন্ডলে নাট্য-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নববর্ষবরণ’র সমাপ্তি করা হবে। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের উদ্যোগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। 
--------------

পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)
 জনসংযোগ দফতর
 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Click here...