উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে Japanese Universities Alumni Association in Bangladesh (JUAAB) এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ÔJapan Education Seminar 2026Õ -এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন Japanese Universities Alumni Association in Bangladesh (JUAAB) -এর সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. টি. এম. জাফরুল আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম এবং ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের Head of Public Relations & Culture ইউ আওয়াগি (Yu Aoyagi)| ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চমানের শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একাডেমিক উৎকর্ষের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে অধ্যয়ন কেবল একটি একাডেমিক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নয়; বরং এটি গবেষণা দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পেশাগত যোগ্যতা, আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের একটি অনন্য ক্ষেত্র।
তিনি বলেন, জাপান সরকারের বিভিন্ন বৃত্তি কর্মসূচি এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত জানার পাশাপাশি সেগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ভাষাগত ও আর্থিক কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আন্তরিক প্রস্তুতি, অধ্যবসায় এবং সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এসব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা অর্জন সম্ভব।
উপাচার্য আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে প্রকৌশল, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জাপানে শিক্ষালাভকারী শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশের বিদ্যমান সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, শিল্পখাত এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি কর্মসূচি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিকীকরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, নিজেদের স্বপ্ন পূরণে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণে কার্যকরভাবে কাজে লাগে। ভবিষ্যতে তোমরাই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
সেমিনারে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ভর্তি প্রক্রিয়া, বৃত্তি সুবিধা-সহ, শিক্ষার্থী জীবন এবং বাংলাদেশ-জাপান একাডেমিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, জাপানে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী এবং জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

২৯/০৭/২০২৬
ফররুখ মাহমুদ
উপ পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।