ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে অঙ্কিত জুলাই-গ্রাফিতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে পুনরায় রংকরণ/পুনর্লিখন কার্যক্রম আজ ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আজ সকালে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং ও আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন-সহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গ্রাফিতির মূল বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখে ১, ২ ও ৩ আগস্ট উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত গ্রাফিতি রংকরণ/পুনর্লিখন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গ্রাফিতি রংকরণ/পুনর্লিখন কর্মসূচিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা অংশগ্রহণ করছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনের স্মৃতি চিহ্ন বহন করছে। জনমনে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের স্মৃতিকে জাগিয়ে রাখতে গ্রাফিতিগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ভয়াল দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সেময় দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। তাদের কন্ঠকে স্তব্ধ করতে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসক সাধারণ মানুষের উপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছিল। এই অন্যায় ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানুষ সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল। সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে শামিল হয়েছিল। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। কিন্তু এর আগে তিনি সহস্রাধিক নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেন। জুলাই-আগস্টে দেশপ্রেমিক ছাত্র-ছাত্রীরা দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে শেখ হাসিনার জুলুম, নির্যাতন ও আক্রোশের চিহ্ন এঁকেছিল। গ্রাফিতিগুলো এখন দেশের জীবন্ত ইতিহাস হয়ে রয়েছে।
উপাচার্য বলেন, আমরা হয়ত থাকবোনা, কিন্তু বাংলাদেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকবে। এই গ্রাফিতির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ সেই রক্তমাখা ভয়াল দিনগুলো চিরদিন স্মরণ করবে, আর জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী চেতনা অন্তরে ধারণ করবে। ভবিষ্যতে দেশে আর যেন ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে সে ব্যাপারে সচেতন থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বর্তমান সরকারের বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কার্যক্রমকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে হবে। উপাচার্য গ্রাফিতি অঙ্কনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
অমর একুশে হল : ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ ১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় অমর একুশে হলের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ : এ উপলক্ষ্যে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে গত ২৯ জুলাই আনওয়ারুল আজীম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে “জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান” শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আগামীর বাংলাদেশকে নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মু. মনজুরুল করিম ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. সামিনা মমতাজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

০১/০৮/২০২৬
(মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম)
পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়