Honorable Vice Chancellor Annual Senate Speech

 

মাননীয় সিনেট সদস্যবৃন্দ
শ্রদ্ধেয় সহকর্মীবৃন্দ এবং উপস্থিত সুধী,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ অপরাহ্ণ। আপনাদের সকলকে ঐতিহ্যবাহী ও প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তী এবং মহান মুজিববর্ষের আবেগঘন মুহূর্তের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 
দীর্ঘ এক বছরেরও অধিক সময় ধরে নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের দরুন পুরো পৃথিবীর মতো আমরা সকলে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জনজীবনে স্থবিরতার এই প্রতিকূল সময়েও দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গসহ সম্মুখ সারির যোদ্ধারা নিজেদের কর্তব্যজ্ঞানের সর্বোচ্চ পরিচয় দিয়ে মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের নমুনা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। সেজন্য তাঁদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিক ও বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি। তাই ২০২১ আমাদের কাছে অন্য যে-কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিশেষত্ব বহন করে। একটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে আপনাদের অনেকে সশরীরে এবং অনেক শ্রদ্ধাভাজন বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য অনলাইনে বার্ষিক সিনেট অধিবেশন ২০২১-এ যোগদান করায় আমি আপনাদের সশ্রদ্ধ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
শ্রদ্ধেয় সিনেট সদস্যবৃন্দ,
বক্তব্যের শুরুতে আমি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী, রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা, অনুপ্রেরণার উৎস ও আস্থার কেন্দ্রস্থল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা এবং বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ নয় মাসের ত্যাগ তিতিক্ষা ও সংগ্রামের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতার বর্ণিল ইতিহাসে বিশ্ব মানচিত্রে আমাদের জায়গা করে দিতে যেসব মহৎপ্রাণ দেশপ্রেমিক মানুষ নিজেদের জীবন নির্দ্বিধায় উৎসর্গ করে দিয়েছেন তাঁদেরকে। বিন¤্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে প্রাণ বিসর্জনকারী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ অন্য শহিদের প্রতি। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরশাসন উৎখাত ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যাঁরা জীবন দিয়েছেন সেই সকল শহিদের প্রতিও আমার অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।
জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে আমি সশ্রদ্ধ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অ্যালামনাই, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সরকার ও তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের যাঁদের সময়োপযোগী নেতৃত্ব এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন ও জীবিকাকে সমভাবে গুরুত্ব দিয়ে কোভিড-উদ্ভূত কঠিন সময় মোকাবেলা ও উত্তরণে অনেক ক্ষেত্রে বিশে^ সফলতার দৃষ্টান্ত রাখছেন।
সম্মানিত সিনেট সদস্যবৃন্দ,
বিশ্ব মানচিত্রে এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠের নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার সোনালি ইতিহাসের ছোঁয়া পড়ছে বাঙালি জাতির মুক্তির ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে। দেশের শিক্ষা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বাতিঘর, মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র এবং গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের লালনক্ষেত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন অতিক্রম করছে তার স্বর্ণালি ইতিহাসের শততম বর্ষ। এই সময়টা আমাদের সকলের জন্যই যেমন আবেগের তেমনই অতীত ইতিহাসের সোনালি দর্পণে নিজেদের আজকের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে আরো একবার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বীজ বপন করার। তাৎপর্যময় এই বছরটির উদ্যাপন নিয়ে ছিল আমাদের সুদীর্ঘ পরিকল্পনা। কিন্তু এই বিশেষ মুহূর্তটিকে ঠিক যে আবেগ ও উচ্ছ¡াসে সকলের অংশগ্রহণে উদ্যাপন করার পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বব্যাপী করোনাসংকটময় অবস্থার জন্য সেটি এ মুহূর্তে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে, নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও ‘টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা রকম উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Ñ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা পরিবেশ এবং অত্যাবশ্যক অবকাঠামোসহ সামগ্রিক উন্নয়নের ‘মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন, মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার তহবিল গঠন ও গবেষণাগারের আধুনিকায়ন, মল চত্বরের ল্যান্ডস্কেপিংসহ ‘সেন্টিনারি মনুমেন্ট’ তৈরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ওপর মৌলিক গ্রন্থ প্রকাশ প্রভৃতি।
শতবর্ষ উদ্যাপনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২১ জানুয়ারি ২০২১ "Celebrating  Hundred Years of the University of Dhaka: Reflections from the Alumni International and National" শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে এর শুভ উদ্বোধন করেন। গণভবন থেকে সংযুক্ত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর মাতৃসম প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলেন, “এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা বাঙালি হিসেবে আমাদের অর্জনের ও গৌরবের। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার এবং আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের প্রতিটি সংগ্রামের সূতিকাগার হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী হতে পেরে আমি সত্যিই খুব গর্বিত”। তাঁর এ সুগভীর আবেগ ও উপলব্ধি আমাদের যারপরনাই গভীরভাবে কৃতার্থ করে, অনুপ্রেরণা দেয়। উল্লেখ্য, উক্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে History of the University of Dhaka & Higher Education in Bangladesh; Sciences for Society; Arts, Literature & Culture; Business for Sustainability; Social Sciences for Life and Living Ges Futures of Higher Education শীর্ষক ৬টি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার (জানুয়ারি-জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ওয়েবিনারে দেশের ও বিদেশের খ্যাতিমান গবেষক, শিক্ষাবিদ, অ্যালামনাই, রাজনীতিক, সমাজবিশ্লেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরে বর্তমানের আলোকে ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন; যা বিশ^বিদ্যালয়কে পথ দেখাবে। শতবর্ষ উদ্যাপনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে লন্ডনে একটি কনফারেন্সের আয়োজন করা হবে। জুলাইয়ে এটি আয়োজনের কথা ছিল, কিন্তু অতিমারি পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্ণাঢ্য শতবর্ষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিক (১লা জুলাই ২০২১) সহ অন্যান্য সকল কর্মসূচির উদ্যাপন ও বাস্তবায়নকাল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ১ জুলাই শতবর্ষপূর্তির মূল অনুষ্ঠানটি এখন ১ নভেম্বর আর লন্ডন-কনফারেন্স মধ্য-নভেম্বরে আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় শতবর্ষপূর্তির বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্বোধন করতে সানুগ্রহ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
প্রিয় সিনেট সদস্যবৃন্দ,
করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গত এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও অনলাইন ও অফলাইনের সমন্বয় আনার মাধ্যমে যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের সহযোগিতার মানসিকতার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করে এবং অনলাইনে/সশরীরে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দীর্ঘসময়ের সেশনজটের ঝুঁকি রুখতে পেরেছে। এ মুহূর্তে ৫-৬ মাসের সেশন জট থাকলেও একাডেমিক কাউন্সিল প্রণীত ‘ক্ষতি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা’ (Loss Recovery Plan) অনুসরণ করলে তার নিরসন ঘটবে; আর শিক্ষার গুণগতমানের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, ফিন্যান্স কমিটি, একাডেমিক কমিটিসহ বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ বডির সভাসমূহ নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়েছে; এমনকি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে অনেক বডির সভা তুলনামূলক বেশি সংখ্যক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, করোনা একটি দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সকলের স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সাহস, ধৈর্য ও সঠিক পরিকল্পনায় সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে চল্লিশোর্ধ শিক্ষকদের টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রæত টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার পর আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার উদ্যোগ গ্রহণের সদয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।

For Details click here

 

 

Latest Scroll News
  • অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ ও দেয়া সংক্রান্ত ভিডিও টিউটোরিয়াল

    Read more...
  • Honorable Vice Chancellor Annual Senate Speech

    Read more...
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহন ফি এবং সংশ্লিষ্টদের আবাসিক ফি মওকুফ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

    Read more...