আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আইইইই-এর তৃতীয় আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং, অ্যাপ্লিকেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস সম্মেলন (COMPAS 2026) আগামীকাল ৯ অক্টোবর শুরু হচ্ছে। দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনে গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালস কম্পিউটিংয়ের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে মতবিনিময় করবেন। আজ ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান এবং COMPAS 2026-এর জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামীকাল ৯ অক্টোবর সকাল ৯টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রধান অতিথি এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সম্মেলনের জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।
এবারের সম্মেলনে মোট ৬১৬টি গবেষণাপত্র জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২১২টি গবেষণাপত্র গৃহীত হয়েছে। গবেষণাপত্র গ্রহণের হার প্রায় ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে COMPAS-এর তৃতীয় আসর।
COMPAS সম্মেলনকে গবেষণার ফল উপস্থাপন, নতুন ধারণা বিনিময় এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা গড়ে তোলার একটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্মেলনের আটটি গবেষণা ট্র্যাকে Intelligent System, Natural Language Processing, ভিজ্যুয়াল কম্পিউটিং, Data Analysis, সাইবার-ফিজিক্যাল ও এজ সিস্টেম, ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেম ও নিরাপত্তা এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিএসই বিভাগে Technical Session এবং বাংলা একাডেমিতে Keynote I Plenary Session অনুষ্ঠিত হবে।
মূল প্রবন্ধ অধিবেশনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, ডালাসের অধ্যাপক ড. লতিফুর খান সাইবার নিরাপত্তা ও পরিবহন নিরাপত্তায় জেনারেটিভ এআই এবং LLM -এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করবেন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের ইমেজ অ্যান্ড ডেটা অ্যানালাইসিস গ্রুপের প্রধান ড. এম জুলিয়াস হোসেন জীববৈজ্ঞানিক চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোগ ও মানবস্বাস্থ্য সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জনের বিষয় তুলে ধরবেন। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী মনি স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বাস্তব সমস্যার সমাধানে ফাউন্ডেশন মডেল ও এজেন্টিক এআই নিয়ে বক্তব্য দেবেন। ডেটাসফট সিস্টেমস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এম মনজুর মাহমুদ উদীয়মান বাজারে নতুন প্রযুক্তি, ফিনটেক ও স্কেলেবল ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সমন্বয়ে পরবর্তী প্রজন্মের এন্টারপ্রাইজ সলিউশন গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করবেন।
১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে `Beyond Al adoption: Redefining Teaching, Assessment and Research in Higher Education` শীর্ষক প্লেনারি আলোচনা। এতে অংশ নেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, ড. এম জুলিয়াস হোসাইন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পিএসসি’র সদস্য এম সোহেল রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, BDREN সিইও মোহাম্মদ তৌরিত এবং পূবালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহাম্মদ আলী। শিক্ষাঙ্গন, ইউজিসি, বিডিরেন ও ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধিদের এই আলোচনায় শিক্ষার্থীদের শেখা, মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা, গবেষণার সততা, কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। প্লেনারি সেশন এর মডারেশন এর দায়িত্বে থাকবেন সম্মেলনের অর্গানাইজিং চেয়ার এবং সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ ।
১০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
এ ধরনের সম্মেলন তরুণ গবেষকদের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরি এবং দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে গবেষণাকে যুক্ত করার সুযোগ দেয়। স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, বাংলা ভাষার প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় গবেষণা স্থানীয় সমস্যার সমাধানে কাজে আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়, নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের সংলাপ গবেষণার ফলকে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দিতে এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল উদ্ভাবনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

০৮/১০/২০২৬
(মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম )
পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়