ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘খোন্দকার লুৎফি রব্বানী-নাজমুন নেছা স্মৃতি বৃত্তি’ প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আজ ৩০ আগস্ট, ২০২৬ রবিবার উপাচার্যের অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোফাজ্জল হোসেন, ট্রাস্টফান্ডের দাতা ও বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে মোঃ আবু সাঈদ ও মুত্তাকী বিন আলীকে ২৪ হাজার ৯০৯ টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়। আর ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে মোঃ মাহমুদুল হক মিলু ও মিথুন ভৌমিককে ২৩ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের বৃত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃত্তির অর্থের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত হয়।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে এলে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরও বেশি সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। আজ যারা বৃত্তি পেয়েছে, তাদের সাফল্য দেখে অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাবা-মা মরহুম খোন্দকার লুৎফি রব্বানী ও মরহুমা নাজমুন নেছার স্মৃতি রক্ষার্থে ‘খোন্দকার লুৎফি রব্বানী-নাজমুন নেছা স্মৃতি বৃত্তি তহবিল’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এ তহবিলের মূলধন ৮ লাখ টাকা। তহবিলের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ১০ শতাংশ মূলধন বৃদ্ধির জন্য সংরক্ষণ করা হয় এবং অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ অর্থ সমান দুই ভাগে ভাগ করে বিভাগের একাডেমিক কমিটির সুপারিশে দুইজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এককালীন বৃত্তি প্রদান করা হয়।
মরহুম খোন্দকার লুৎফি রব্বানী ১৯০৪ সালে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার গোরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৩০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশ বিভাগে যোগ দিয়ে একজন সৎ, বিনয়ী ও ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবনে সুনাম অর্জন করেন। ১৯৬২ সালের ১১ জুন পাবনা শহরে কর্মরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মরহুমা নাজমুন নেছা ১৯১৪ সালের ৭ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত হলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, সৃজনশীল ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে পারদর্শী। স্বামীর মৃত্যুর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সন্তানদের সুশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। ২০০৭ সালের ১১ নভেম্বর প্রায় ৯৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৩০/৮/২০২৬
ফররুখ মাহমুদ
উপ পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।