লেখক, গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিদ্দিকা মাহমুদা রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
অধ্যাপক সিদ্দিকা মাহমুদার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বাণীতে উপাচার্য বলেন, তিনি একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও গবেষক ছিলেন। শিক্ষা ও গবেষণায় অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক সিদ্দিকা মাহমুদার জন্ম ১৯৫১ সালের ১৫ই এপ্রিল। তিনি ১৯৬৭ সালে খুলনার করোনেশন বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৯ সালে খুলনা মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে ১৯৭২ সালে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯০ সালে 'সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কবিমানস ও কাব্য' শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সাহিত্য প্রসঙ্গে তিনি বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনামূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রবীন্দ্রনাথের গদ্যকবিতা: চেতনা ও চিত্রকল্প (১৯৮১); মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (১৯৮৭); এম. ফাতেমা খানম (১৯৮৯); সা'দত আলি আখন্দ (১৯৯০); সুধীন্দ্রনাথ: কবি ও কাব্য (১৯৯২) ২০২২ সালে রবীন্দ্র-গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ অধ্যাপক সিদ্দিকা মাহমুদার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরহুমার মরদেহ আগামীকাল ১১ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার দুপুর ১২:৩০ টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আনা হবে। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআ’য় জানাজার নামাজ শেষে তাকে রায়ের বাজার করবস্থানে দাফন করা হবে।

১০/১০/২০২৬
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
পরিচালক
জনসংযোগ দপ্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়