ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিশু, নারী ও প্রবীণদের জন্য সহজলভ্য, মানবিক ও কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি, পেশাজীবী এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান-সহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। আজ ০৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রাম আয়োজিত ‘Victimization to Resilience: Mental Health Services for Children, Women, and the Elderly’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানার সভাপতিত্বে সেমিনারে অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন ভূঁঞা এবং অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অধ্যাপক ড. শেখ তৌহীদুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিশু, নারী ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন, অবহেলা, বৈষম্য, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অন্যান্য প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে পারেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাঁদের শুধু ভুক্তভোগী হিসেবে দেখার পরিবর্তে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়: এটি সামাজিক কল্যাণ, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক জীবনমানের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। উপাচার্য বলেন, অর্জিত জ্ঞান শুধু একাডেমিক সাফল্যের জন্য নয়, মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও কল্যাণময় করার জন্য এটিকে ব্যবহার করতে হবে। সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সক্ষমতা ও মর্যাদা পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখা একজন সমাজকল্যাণ পেশাজীবীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এই সেমিনার শিক্ষা, গবেষণা, নীতি এবং পেশাগত অনুশীলনের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিশু, নারী ও প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে এখানে উপস্থাপিত গবেষণা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ গবেষণা, শিক্ষা এবং সেবা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি পেশাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের লক্ষ্য শুধু শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান প্রদান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা বিশ্লেষণ, গবেষণাভিত্তিক চিন্তা এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার দক্ষতা তৈরি করা। জাতীয় পর্যায়ের এই সেমিনার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ একটি সুযোগ, যেখানে তাঁরা গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নতুন ধারণা অর্জন করতে পারবেন।
উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, মানবকল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পেশাগত সমাজকর্মের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। পরিবর্তনশীল সমাজে দারিদ্র্য, বৈষম্য, বেকারত্ব, বার্ধক্য, অপরাধ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো ক্রমেই জটিল ও আন্তঃসম্পর্কিত হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় জ্ঞান, দক্ষতা, সহমর্মিতা এবং নৈতিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন পেশাজীবী গড়ে তোলার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সেমিনার উপলক্ষ্যে প্রকাশিত Harmony শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

০৯/১০/২০২৬
(মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম )
পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়