ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষকতা পেশায় একাডেমিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়। ফলে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীলতা, কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং অন্যের সময় ও অধিকারকে মূল্য দেওয়ার মাধ্যমে এই চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
আজ ১৯ আগস্ট ২০২৬, বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কনফারেন্স রুমে ‘Stress Management in Everyday Life’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলা অনুষদ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
উপাচার্য বলেন, দৈনন্দিন জীবনে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে মানসিক চাপের মুখোমুখি হই। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে হয়। এর সঙ্গে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় যুক্ত হওয়ায় অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এসব ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সময়কে মূল্য দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখলে তা পরবর্তীতে আরও বড় চাপ তৈরি করে। তাই কাজ জমিয়ে না রেখে সময়মতো সম্পন্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু নিজের কাজ সম্পন্ন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তার কাজের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও সম্পৃক্ত। কোনো শিক্ষক সময়মতো পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন বা ফলাফল প্রকাশ না করলে শিক্ষার্থীরা এর কারণে ভোগান্তির শিকার হয়। তাই নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও নৈতিকতার বিষয়টি সবসময় বিবেচনায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সময়, কাজ এবং মানুষের প্রতি যথাযথ মূল্যবোধ থাকা প্রয়োজন। জীবনে কোন সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কোন কাজটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন মানুষটি গুরুত্বপূর্ণ- এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকলে জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল ও আনন্দময় করা সম্ভব। সময়ের মূল্য দিতে হবে, কাজকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে এবং অন্য মানুষের সময় ও প্রয়োজনের প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মূলত শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করেন। শিক্ষার্থীরা যাতে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং কর্মক্ষেত্রের অনেক ধরনের চাপও কমে আসবে।
তিনি বলেন, মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমষ্টিগতভাবে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে অনেকে মনোবিজ্ঞানী, বন্ধু বা সহকর্মীর পরামর্শ নেন। কিন্তু শিক্ষকসমাজের জন্য সম্মিলিতভাবে বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে মানসিক চাপ মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তিনি এ ধরনের আয়োজনের জন্য কলা অনুষদকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, সেমিনারের আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব থেকে শিক্ষকরা দৈনন্দিন জীবনে মানসিক চাপ মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা পাবেন।
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শাহানূর হোসেন। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। সেমিনারে কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯/০৮/২০২৬
ফররুখ মাহমুদ
উপ পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।